পাল্টে যাচ্ছে দেশের রাজনীতি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৩৭:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০১৮

ঈদের পর পাল্টে যাচ্ছে দেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি। জাতীয় নির্বাচন খুবই সন্নিকটে থাকায় সরকারবিরোধী আন্দোলনমুখী দলগুলো একাট্টা হয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে। যা মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে বহুবিধ রূপ লাভ করতে পারে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকালীন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলেও ধারণা করছেন কেউ কেউ। সরকারি দল আওয়ামী লীগ কোনো ধরনের সংলাপ-সমঝোতায় আগ্রহী না থাকায় বিরোধী যেকোনো আন্দোলন দমনে তারাও এ সময় মাঠে থাকবে বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে ঈদের পরপরই নতুন মাত্রায় শুরু হতে পারে গ্রেফতার অভিযান।

এ বছরের শুরু থেকেই রাজনীতিতে এক ধরনের উত্তাপ বইছে। বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর নির্বাচনকেন্দ্রিক সমীকরণ কিছুটা স্পষ্টই হয়ে গেছে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানবিহীন নির্বাচন করার যে তৎপরতা গত কয়েক বছর ধরে শোনা যাচ্ছিল, সেটি একাদশ সংসদ নির্বাচনে বাস্তবায়িত হতে পারে। ক্ষমতাসীনদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে তারা যে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তা অনেকটাই স্পষ্ট।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ইতোমধ্যে উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। খোদ সরকারই ফের একটি সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে। সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ ধরনের শঙ্কাপূর্ণ বক্তব্য এখন প্রতিদিনই দিচ্ছেন। গতকাল রোববার তিনি বলেছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় বিএনপি নানা ষড়ষন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা দেশে ১/১১-এর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। ২০১৪ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেশে-বিদেশে গোপনে বৈঠকও করছে তারা। উত্তাপ ছড়ানো বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির নেতারাও। গণ-অভ্যুত্থান কিংবা গণ-আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহৎ দুই দলের শীর্ষ নেতাদের এ ধরনের বক্তব্য নিছক বক্তব্যই নয়। নির্বাচনের আগের তিন মাসে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আগে ও পরের দিনগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উত্তাল থাকতে পারে।

ইতোমধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলসহ কয়েকটি রাজনৈতিক জোট। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর গণফোরাম সভাপতি ড. কামালের ডাকা সমাবেশে সরকারবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রকাশ্য রূপ নিতে পারে। এ ল্েয বিকল্প ধারার সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট এবং সিপিবি-বাসদের আট দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোট গঠন হয়েছে। ড. কামালের নেতৃত্বাধীন আরেকটি জোট গঠনের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জানা গেছে, জোটবদ্ধ দলগুলোর দাবি এক ও অভিন্ন। তা হলো আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো। এ দাবিতে জোটগুলোর মধ্যে এখন প্রায়ই বৈঠক হচ্ছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বেশ আলোচনা আছে। ২২ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে জোটগুলো এক মঞ্চ থেকে সরকারের কাছে কঠোর বার্তা দিতে চায়। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকায় বড় শোডাউন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

জানা গেছে, বিএনপি সরকারবিরোধী বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে জাতীয় ইস্যুতে পাঁচ দফা দাবির একটি খসড়া তৈরি করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন করে মামলা না দেয়া, সব রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতি বাতিল। জানা গেছে, বিএনপি এসব দাবিতে স্বল্পমেয়াদি একটি কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেননয়া দিগন্তকে বলেন, সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে তাদের আন্দোলন বহু দিন ধরেই চলে আসছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর সেই আন্দোলনের সাথে তার মুক্তি আন্দোলন যোগ হয়েছে। দলীয় প্রধানের মুক্তিই তাদের প্রধান এজেন্ডা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না, হতে পারে না। সরকার যতই নীলনকশা করুক না কেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পুনরাবৃত্তি আর হবে না।

যুক্তফ্রন্ট গণ ফোরামের বৃহত্তর ঐক্য গড়ার সিদ্ধান্ত

যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বৃহত্তর ঐক্য গড়তে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত রাতে বি. চৌধুরীর বারিধারার বাসভবন ‘মায়া-বি’তে যুক্তফ্রন্ট এবং গণফোরামের এক যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লা চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব:) আবদুল মান্নান, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, জেএসডির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদউদ্দিন মাহমুদ ও নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লা কায়সার উপস্থিত ছিলেন।

ঈদুল আজহার পর পরই ন্যূনতম সময়ের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে মহাসমাবেশ ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আজ বিকেল ৫টায় দুই শীর্ষ নেতা ও অন্য নেতারা ড. কামালের বেইলি রোডের বাসভবনে যৌথ সভায় মিলিত হবেন বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।