পুতিনের সঙ্গে আলাপ শেষেই সিরিয়ায় হামলা চালালো ইসরাইল (ভিডিও)

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৩১:অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৮
পুতিনের সঙ্গে আলাপ শেষেই সিরিয়ায় হামলা চালালো ইসরাইল (ভিডিও)

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আলাপ শেষেই সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।

বুধবার রাতে মস্কোতে পুতিন ও নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর সিরিয়ার গোলান মালভূমি এলাকায় তিনটি স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের বিমানবাহিনী।

ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এর খবরে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় সিরিয়ার একটি ড্রোন ইসরাইলের সীমানায় প্রবেশ করলে সেটি তারা বিধ্বস্ত করে।

এরপর মস্কোতে দুই নেতার বৈঠক শেষে গোলান মালভূমির তিনটি স্থানকে টার্গেট করে বিমান হামলা চালানো হয়।

ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) এর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গোলানের যে তিনটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো হামাসের অবস্থানস্থল। প্রতিটি হামলা লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলের বিমানবাহিনী।


তবে ইসরাইলের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে জানিয়েছে, ইসরাইল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, কুনেইত্রা প্রদেশে বুধবার রাতে ইসরাইল ওই হামলা চালিয়েছে।

সানা জানিয়েছে, ইসরাইলি জঙ্গিবিমান থেকে গোলান মালভূমিতে সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে এতে কোনো সেনা হতাহত হয়নি; শুধুমাত্র সামরিক অবস্থানের কিছু ক্ষতি হয়েছে। সিরিয়ার সামরিক সূত্রও এ হামলার কথা জানিয়েছে।

এদিকে বুধবার যখন এই হামলা চালানোর কিছুক্ষণ আগে বৈঠক করেন পুতিন ও নেতানিয়াহু। বৈঠকে সিরিয়ায় ইরানের ভূমিকা অবসানের আহ্বান জানান নেতানিয়াহু।

মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু সিরিয়ায় সারিক পরামর্শক হিসেবে ইরানের ভূমিকা অবসানের আহ্বান জানান। ইসরাইল অধিকৃত গোলান মালভূমির কাছাকাছি এলাকাগুলো সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করার পর্যায়ে রয়েছে সিরিয়ার সামরিক বাহিনী। ওই এলাকায় তৎপর সন্ত্রাসীদের সব রকমের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছিল তেল আবিব।

গবৈঠকে নেতানিয়াহু পুতিনকে বলেছেন, “ সবাই এটা ভালো জানে যে, সিরিয়ায় ইরান কী করছে সেটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সিরিয়া থেকে ইরানকে চলে যেতে হবে, এটা আপনাদের জন্য নতুন কিছু নয়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরাইলের একজন কর্মকর্তা বলেন, “তেল আবিব সরকার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে উৎখাত করতে চায় না ইসরাইল। কিন্তু অধিকৃত এলাকা থেকে ইরানি সেনাদের সরিয়ে দিতে ভূমিকা রাখুক মস্কো।

নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের জবাবে পুতিন কী বলেছেন তা জানা যায়নি। তবে মস্কো সব সময় বলে আসছে, সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ইরানের মতো প্রভাবশালী দেশের যুক্ত থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

এর আগে, গত রোববার ইসরাইল সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় হোমস প্রদেশের টি-ফোর বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তবে সে হামলাও প্রতিহত করেছিল সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট।

ইসরাইল সম্প্রতি সিরিয়ার ওপর হামলা জোরদার করেছে। সিরিয়া এসব হামলার নিন্দা করেছে এবং বহুসংখ্যক হামলা প্রতিহত করেছে।

ইরানের অভিযোগ, সিরিয়ায় যেসব উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দেশটিতে সহিংসতা ও বীভৎস্য হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তাদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে সহায়তা করছে ইসরাইল।