গাজা-যুদ্ধে একই পরিবারের ৪ ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা ছিল ইচ্ছাকৃত: ইসরাইল

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:১৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৮ | আপডেট: ১:১৮:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৮

গাজায় ৫০ দিনের যুদ্ধের সময় একই পরিবারের চার ফিলিস্তিনি শিশুকে ঠাণ্ডা মাথায় তথা ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার বিষয়টি উদঘাটন করেছে দখলদার ইসরাইল।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের পুলিশ বাহিনীর এক গোপন তদন্তে এ বিষয়ে মুখ খুলেছে হামলায় জড়িত হানাদার ইসরাইলি সেনারা ।

ইসরাইলি পুলিশের তদন্ত রিপোর্টের বরাত দিয়ে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, ৫০ দিনের যুদ্ধে ‘হেরমেস’ বহু ফিলিস্তিনি শিশুকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করেছিল।

ইসরাইলের এই গোপন রিপোর্টে বলা হয়েছে, ড্রোনের অপারেটররা তদন্তকারীদের বলেছেন, তারা প্রথমে একটি শিশুকে হত্যা করে। এরপর তারা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান বেসামরিক জনগণ ব্যবহার করছে এমন একটি উপকূলীয় এলাকায় বেঁচে-থাকা ও পালাতে-থাকা শিশুদের ধাওয়া করতে হবে কিনা। কিন্তু তাদের প্রশ্নের উত্তর কখনও দেয়া হয়নি। প্রথম শিশুটি নিহত হওয়ার এক মিনিটেরও কম সময়ে ফিলিস্তিনি ছেলে শিশুগুলো যখন প্রাণ রক্ষার জন্য পালাচ্ছিল তখন ইসরাইলি অপারেটররা দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং তাতে আও তিন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়। এই শিশুদের সবারই বয়স ছিল ১০ থেকে ১১।

ফিলিস্তিনি এই শিশুদের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠলেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় জাতিসংঘ।

২০১৪ সালের ৭ জুলাই বর্ণবাদী ইসরাইল গাজার ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় এবং ৫০ দিনের ওই যুদ্ধে দুই হাজার ৩২২ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ছিল ৩৬৬ শিশু, ১৮০ নবজাতক ও ২৪৭ জন নারী।

ফিলিস্তিনি তথ্য-কেন্দ্রের প্রচারিত এক রিপোর্টেও বলা হয়েছে, ৫০ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলের একটি ‘হেরমেস’ ড্রোন গাজার সাগর উপকূলে খেলাধুলায় ব্যস্ত সাত ফিলিস্তিনি শিশুর ওপর হামলা চালায় এবং তাতে তাদের চার জন শহীদ ও দু’জন আহত হয়।

২০১৪ সালের ওই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও দখলদার ইসরাইল প্রায়ই নানা অজুহাতে গাজায় বিমান ও কামানের হামলা চালাচ্ছে।

ইসরাইল ২০০৬ সাল থেকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। স্থল, আকাশ ও সাগর-পথে এই নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজার অধিবাসীরা নানা ধরনের মানবিক সংকটে দিনাতিপাত করছে।