‘সংবিধানে বিসমিল্লাহ যুক্ত করেন, আবার মদের লাইসেন্সও দেন জিয়া’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪৮:অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৮

টিবিটি রাজনীতি: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, যে হাত দিয়ে জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহ শব্দটি যুক্ত করেছিলেন, সেই হাত দিয়ে সারাদেশে ৩৬০টি মদের বারের লাইসেন্সও দিয়েছিলেন।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা কলেজের আ ন ম নজিব খান অডিটোরিয়ামে আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপকমিটি আয়োজিত ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় মাদকমুক্ত দেশ গঠনে ছাত্রসমাজ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ইয়থ ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে সে ক্লাবে হাউজির নামে জোয়া খেলার লাইসেন্সও দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। লাকী খানের ঝাঁকি নৃত্যও প্রচলন করেছিলেন তিনি। অর্থাৎ যুবসমাজকে নষ্ট করার জন্য যত রকমের অপকর্ম দরকার সবাই ৭৫ পরবর্তী সরকারেরা করেছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বক্তৃতাকালে রেসকোর্সের নাম বদল করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান করেন। সেখানে রেসকোর্স অর্থাৎ ঘোড় দৌড় বন্ধ করেন। একসঙ্গে মদের বার ও জোয়া খেলা বন্ধ করেন। ৭৫ পরবর্তী সরকারেরা দেশের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা না করেই তা পুনরায় চালু করেন। এই তারাই না কি ইসলামিক ভাবধারায় বিশ্বাস করেন।

আওয়ামী লীগের এই নেত্রী বলেন, কোন ইসলামে আছে যে জোয়া খেলার বৈধ্যতা দিতে হবে? কোন ইসলামে আছে যে মদের বারের লাইসেন্স দিতে হবে? লাকী খানের ঝাঁকি নৃত্যের নামে উলঙ্গ নৃত্যের বৈধতা দিতে হবে? যে বঙ্গবন্ধু ‘হিজবুল বহর’ নামের একটি জাহাজের মাধ্যমে হজ যাত্রীদের হজে যাওয়ার ব্যবস্থা করতেন সেই ‘হিজবুল বহর’র মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিঙ্গাপুরে যান এবং সেখানে গিয়ে তাদের ছেড়ে দেন। এই হলো তার ধর্মীয় প্রেম, এই হলো তার দেশপ্রেম।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন সকল ষড়যন্ত্র ভেদ করে বাংলাদেশ বিশ্বের বিস্ময় সৃষ্টি করে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই নতুন ষড়যন্ত্র শুরু। মাদক সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেয়া, আগুন সন্ত্রাস করা, রোহিঙ্গাদের উস্কিয়ে দেয়া। কিন্তু কোনো কিছুতেই শেখ হাসিনা সরকারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি; এগিয়ে যাচ্ছে অগ্রতিরোধ্য গতিতে।

আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও উপকমিটি সদস্য সচিব শামসুন্নাহার চাঁপার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, মানসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী।

তিনি লেজার স্ক্রিনে স্বচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে বাংলাদেশে মাদকের বিস্তার, মাদক গ্রহণের ফলে এদেশের যুব সমাজ তথা মাদকাসক্তদের পরিণতি এবং তা থেকে উত্তরণের পথ তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের দারিদ্রপীড়িত মানুষের কল্যাণের জন্য জাতির জনক যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা আজ অনেকাংশেই বাস্তবায়িত। স্বাধীন বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় কিসিঞ্জারের মতো ভিনদেশিরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন, এই দেশ আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। তলাবিহীন ঝুড়ি হয়ে থাকবে। কিন্তু আজ সব তাচ্ছিল্যের জবাব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ দিয়ে দিয়েছে। আজ বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বর বিস্ময়।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপকমিটি সদস্য ড. আমিনুর রহমান সুলতান ও শিউলী আফসার।

অনুষ্ঠানে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতারা ঢাকা কলেজকে মাদকমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সেই সঙ্গে ঢাকা কলেজের সামনে যে মদের (গ্যালাক্সি) বার রয়েছে তা সরানোর জন্য জোর আবেদন জানান।