যুদ্ধ আমাকে শক্তি জুগিয়েছে: মদ্রিচ

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫২:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০১৮
যুদ্ধ আমাকে শক্তি জুগিয়েছে: মদ্রিচ

টিবিটি খেলাধুলা: ১৯৯১ সালে রাষ্ট্র হিসেবে গঠিত হওয়ার ৭ বছর পর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেয় ক্রোয়েশিয়া। নবাগত হয়েও সেবার সেমিফাইনালে ওঠার পাশপাশি তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
আর এবারের বিশ্বকাপে সবাইকে চমকে দিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে ক্রোয়েটরা। দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা লুকা মদ্রিচ, যাকে বর্তমান ফুটবলের সেরা মিডফিল্ডার বিবেচনা করা হয়।

ক্রোয়েশিয়ার ‘মিডফিল্ড মায়েস্ত্রো’ মদ্রিচের শৈশব ছিলো ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় ঠাসা। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে লুকার বয়স যখন মাত্র ৬ বছর, সেই সময় বলকান যুদ্ধ শুরু হয়। সার্বিয়ান সেনারা ক্রোয়েশিয়ার গ্রামে গ্রামে ভয়াবহ আক্রমণ চালায়।

যুদ্ধের সময়টায় জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি পড়তে হয় মদ্রিচের পরিবারকে। ছয় বছর বয়সী মদ্রিচ ভীষণ মানসিক আঘাত পান যখন তার চোখের সামনেই তার দাদাকে গুলি করে হত্যা করে সার্ব আর্মি।

মদ্রিচের মা একজন টেক্সটাইল কর্মী ছিলেন আর তার বাবা ছিলেন মেকানিক, যিনি ক্রোয়েশিয়ান সেনাদের গাড়ি সারাতেন। সার্বদের গণহত্যার মুখে লুকার পরিবার শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। অনেক সাক্ষাৎকারে লুকা তার শৈশবে বোমার শব্দ আর গুলির সাক্ষাৎ অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তিনি ও তার বোন রাস্তায় চলাচলের সময় সাবধানতার সাথে মাইন খুঁজে খুঁজে পথ চলতেন।

মদ্রিচ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই যুদ্ধ আমাকে শক্তি জুগিয়েছে। আমার সাথে আমার পরিবার দীর্ঘ সময় অভাবনীয় কষ্ট করেছে। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদোকে নিজের আদর্শ খেলোয়াড় ভাবেন বলেও জানান লুকা মদ্রিচ।

ছোট্ট শারীরিক গড়নের জন্য অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে ক্রোয়েট অধিনায়ককে। তাকে দুর্বল আর লাজুক মনে করতো সবাই। ছোট আকৃতি ফুটবল খেলার সাথে ফিট নয় বলে কটাক্ষও শুনতে হয়েছে তাকে। তবে মদ্রিচ ঠিকই বিশ্বাস করতেন তার ওই ছোট দুই পায়ে অসাধারণ কিছু আছে।

ক্লাব ক্যারিয়ারেও লুকা মদ্রিচের সাফল্য অনেক। ২০০৮ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব টটেনহামে যোগ দিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়নস লিগে তুলতে ভূমিকা রাখেন। তার সময়েই ২০১০-১১ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে টটেনহাম। সেই সাফল্যের জেরে তাকে দলে ভেড়ায় স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং এখনও সেখানেই আছেন তিনি। রিয়ালে তার শিরোপার ঝুলি বেড়েই চলেছে।

গতি আর সৃজনশীল প্লে-মেকার হিসেবে বিশ্বের সেরা খর্বকায় মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ। বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪২ লাখ ক্রোয়েটের স্বপ্ন এখন লুকা মদ্রিচের ছোট্ট কাঁধে।