মহেশপুরে ৩ ছাত্রকে বলাৎকারে অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে জরিমানা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৫৩:অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০১৮

টিবিটি দেশজুড়ে: তিন ছাত্রকে বলাৎকারের লিখিত অভিযোগে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষককে চাকুরিচ্যুত ও জরিমানা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া ইউপির হুসোরখালি কওমিয়া মাদ্রাসায়। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রাম আদালতে হুসোরখালি কওমিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুহতামিম মাহমুদুল হাসান হুমায়ুনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় মাদ্রাসা থেকে তাকে চাকুরিচ্যুত ও জরিমানার রায় দেওয়া হয়।

জানা যায়, ২০১৬ সালের শেষের দিকে হুসোরখালি কওমিয়া মাদ্রাসায় মুহতামিম মাহমুদুল হাসান হুমায়ন তার মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে বলাৎকার করে। বলাৎকারের কথা উক্ত মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ওমর ফারুককে জানান তারা। ওমর ফারুক বলাৎকারের শিকার দুই ছাত্রের কাছে লিখিত অভিযোগ চাইলে তারা লিখিত অভিযোগ দেন।

পরে ওমর ফারুক ম্যানিজিং কমিটির সহ সম্পাদক জাহাঙ্গীরকে সঙ্গে নিয়ে মুহতামিম মাহমুদুল হাসান হুমায়ুনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে ক্ষমা চায়। পরে মাদ্রাসার সন্মান রক্ষাত্রে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার জন্য হুশিয়ার করে দেন তারা। কিন্তু কিছুদিন পরে সে আবার আরো একজন ছাত্রকে তার জঘন্য কাজের শিকার বানায়।

ওই ছাত্র কয়েকজন বন্ধুকে জনায় যে উক্ত শিক্ষক তার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে। এ তথ্য জানিয়ে ছাত্রটি মাদ্রাসা থেকে বাড়ি চলে যায়। বাড়ি গিয়ে সে আর এ মাদ্রাসায় পড়বে না বলে তার মা-বাবাকে জানায়।

মাস খানেক আগে উক্ত ছাত্রের পিতা হুসোরখালি গ্রামে এলে লোক মুখে জানতে পারেন হুসোরখালি কওমিয়া মাদরাসায় ৪-৫জন ছাত্রকে হুমায়ন হুজুর বলাৎকার করেছে। বাড়ি যেয়ে ছেলের মুখে ঘটনার সত্যতা শুনে গত ৮-৬-২০১৮ তারিখে বলাৎকারের বিচার চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেন।

পান্তাপাড়া ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান ও গ্রাম আদালতের সভাপতি ইসমাইল হোসেন জানান, তিন ছাত্রকে বলাৎকারের লিখিত অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রাম আদালত বসে। গ্রাম আদালতে মাদ্রাসা শিক্ষক হুমায়নের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় গ্রাম আদালতের বিচার বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হুমায়নকে মাদরাসা থেকে চাকুরিচ্যুত, জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়া ও ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ছাত্র বলাৎকারের ঘটনা মেনেজিং কমিটির সভাপতি ও অন্য কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখার অপরাধে সহকারী শিক্ষক ওমর ফারুককেও চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে।

গ্রাম আদালতে বলাৎকারের বিচার দেখতে ইউপির শত শত জনতা উপস্থিত ছিলেন।