ট্রাম্প-কিম চুক্তিতে জয় পেল চীন

উ. কোরিয়ার দৃষ্টিতে ‘শতাব্দীর সেরা বৈঠক’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১০ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ১০:১০:পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮

টিবিটি আন্তর্জাতিক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে চীন। পারমাণবিক শক্তিধর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দুটোর নেতাদের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্মেলন শেষে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা লাভের ভাগ কার ঘরে কতটুকু গেল- তা নিয়ে চুলচেরা হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন।

উত্তর কোরিয়া নিয়ে মার্কিননীতি ইরান-পাকিস্তানের মতো বিফলে যাবে কিনা তা নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে কোরীয় উপদ্বীপে এখন যুদ্ধ ছাড়া আর যাই ঘটবে, তাতেই চীনের লাভ বলছেন বিশ্লেষকরা।

এবিসি নিউজ জানায়, দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ খেলা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বিসর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এতে চীনের জন্য কূটনৈতিক বিজয়ের বার্তা রয়েছে। কারণ কিমের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে মিত্র দেশ হয়েও উত্তর কোরিয়ার ওপর কড়া অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে বাধ্য হয় চীন। ফলে উত্তর কোরিয়ায় দেশটির বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।

এখন সেই প্রতিবন্ধকতাও উঠে যাবে। পাশাপাশি মিত্র দেশটির ওপর থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। অতি সম্প্রতি দুই মাসের কম সময়ের ব্যবধানে কিম দু’বার চীন সফর করেছেন।

উত্তর কোরিয়ার নেতা হিসেবে এটিই ছিল কিমের প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরের মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন, চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ আছে এবং তিনি জিনপিংয়ের কূটনৈতিক মদদ চান। সিঙ্গাপুর সম্মেলনের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের থাকা ২৮ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসবে বলে প্রত্যাশা করেছিল চীন।

এ বিষয়ে কিমের সঙ্গে জিনপিংয়ের কয়েক দফা দর কষাকষিও হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঐতিহাসিক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সেনা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে এশিয়ায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে চীনের সোনালি সুযোগ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিমত্তার বৃহত্তম পরিচায়ক।

এছাড়া উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের দরুন তাদের ওপর থেকে সব অবরোধ তুলে নেয়া হয় তাতে চীনের জন্য বৃহত্তম একটি বাজার তৈরি হবে, যা ইরানের ক্ষেত্রেও হয়েছিল। চীন তাদের ৯০ শতাংশ বাণিজ্য উত্তর কোরিয়ায় করে থাকে।

গত বছর দেশটির কয়লা, লোহা, সামুদ্রিক খাদ্য ও শ্রমিকদের ওপর অবরোধ আরোপ করে চীন। এরই মধ্যে উত্তরের সীমান্ত বরাবর তিনটি মুক্ত বাণিজ্যিক এলাকা নির্মাণের পরিকল্পনা করছে বেইজিং। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের মাধ্যমে সুবিধা হাসিল করতে চায় চীন। বিশ্বের অন্যতম স্বল্পমূল্যের শ্রমিক পাওয়া যায় উত্তর কোরিয়ায়।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তরের সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বৈঠককে অত্যন্ত সফল হিসেবে বিবেচনা করছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মঙ্গলবারের ঐতিহাসিক বৈঠকে নিজেদের বিজয় হয়েছে মনে করে উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভেসে গেছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। খুশির নিদর্শনস্বরূপ ট্রাম্প-কিম, ‘দুই নায়কে’র ছবি একসঙ্গে প্রকাশ করে দেশটির গণমাধ্যম।

উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যমে চিরশত্রু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম। এর মাধ্যমে কোরিয়া যুদ্ধের ৬৫ বছর পর আরও একটি নতুন ইতিহাস রচনা করল কিমের দেশ। খবর রয়টার্সের।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি-কেসিএনএ তাদের বুধবারের সংখ্যায় ট্রাম্প-কিম বৈঠককে পিয়ংইয়ংয়ের জন্য একটি অনেক বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে। পত্রিকাটি তাদের প্রথম পৃষ্ঠায় বৈঠকটিকে ‘শতাব্দীর সেরা বৈঠক’ হিসেবে শিরোনাম করে বলেছে, ট্রাম্পের ঘোষণায় উত্তর কোরিয়ার জন্য বিশেষ ছাড়ের উল্লেখ ছিল।

মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে যথেষ্ট আস্থা অর্জন করতে পারলে কোরীয় উপদ্বীপে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধের বিষয়ে বিবেচনা করে দেখবেন তিনি।