সিঙ্গাপুরে বৈঠক: ট্রাম্প কি তাহলে ভুল করলেন?

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৮ | আপডেট: ৫:২১:অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৮

টিবিটি আন্তর্জাতিক: সিঙ্গাপুরে গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠককে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম বিপুল সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে৷ বিশেষ করে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়াকে ‘প্ররোচনা` হিসেবে স্বীকার করে তা বন্ধ রাখার যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে৷ কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও সমৃদ্ধির নতুন যুগের সম্ভাবনাকে ঘিরেও সে দেশে বিপুল প্রত্যাশা জেগে উঠছে৷

উত্তর কোরিয়ার প্রাপ্তিতালিকা আরও দীর্ঘ৷ কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকার করে সে দেশ নিরাপত্তা গ্যারেন্টির প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পেরেছে৷ সম্পর্কের উন্নতি হলে নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প৷ যথেষ্ট অগ্রগতি হলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মার্কিন সেনাও প্রত্যাহার করতে চান তিনি৷ উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ ফলাও করে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছে৷

কোনও স্পষ্ট অগ্রগতি ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের এমন নরম মনোভাবের কড়া সমালোচনা শোনা যাচ্ছে৷ বিশেষ করে ট্রাম্প যেভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পক্ষে ব্যয়ভারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন, আমেরিকায় অনেক মহল তার ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে৷ গোটা অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ বজায় রাখতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন রিপাবলিকান দলেরই সংসদ সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম৷

প্রসঙ্গত, ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়া যুদ্ধের পর থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন রয়েছে৷ সিঙ্গাপুর থেকে আমেরিকায় ফেরার পথে ট্রাম্প নিজে এক টুইট বার্তায় শীর্ষ বৈঠকের সাফল্য তুলে ধরেছেন৷

তার মতে, পথিবী এক পরমাণু বিপর্যয় থেকে পিছিয়ে এসেছে৷ তিনি কিম জং উন-এর প্রশংসা করে লিখেন, তিনি তার দেশের মানুষের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে প্রথম সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন৷

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন-এর সরকারও সামরিক মহড়া বন্ধ রাখার আচমকা ঘোষণার ফলে বিস্ময় প্রকাশ করেছে৷ সে দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, উত্তর কোরিয়া তার উদ্দেশ্য পূরণ করতে পেরেছে৷

পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে সমান মর্যাদা নিয়ে তারা মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সামরিক মহড়া বন্ধ করাতে সফল হয়েছে৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বুধবার সৌলে পৌঁছাচ্ছেন৷ বৃহস্পতিবার তিনি প্রেসিডেন্ট মুন এবং পরে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরবেন৷ এই দুই সহযোগী দেশকে আশ্বস্ত করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবারই এক বিবৃতি প্রকাশ করেছিল৷

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, উত্তর কোরিয়ার নেতাকে সৌজন্য, প্রশংসা ও একতরফা ছাড় দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার উপর নতুন ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছেন৷ এতকাল শুধু সে দেশের উপরেই নানা পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতো৷ ট্রাম্প কিম জং উন-এর প্রতি আস্থা দেখিয়ে তাকে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করতে উদ্বুদ্ধ করতে চান৷

কিম বিলক্ষণ জানেন, তিনি সেই পথে অগ্রসর না হলে ট্রাম্প ক্রোধের বশে অনেক কিছু করে বসতে পারেন৷ ট্রাম্প সম্প্রতি জি-সেভেন গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের প্রতি যে আচরণ করেছেন, তার আলোকে চট করে তাকে ক্ষুব্ধ করতে চাইবেন না কিম, এমনটা আশা করছেন অনেকে৷