‘একদরেই’ সর্বনাশ বসুন্ধরার পোশাক বিক্রেতাদের

প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৫:৪২:অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০১৮
‘একদরেই’ সর্বনাশ বসুন্ধরার পোশাক বিক্রেতাদের

ঈদ প্রায় আসি আসি করছে। এ সময়ে অন্যান্য বছরগুলোর মতো লোক সমাগম থাকলেও আগের মত বিক্রি নেই দেশের জনপ্রিয় শপিং মল বসুন্ধরা সিটিতে। পোশাক বিক্রেতারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে জানালেন অন্য বছরগুলোর মতো এ বছর বিক্রি তেমন একটা নেই।

বৃহস্পতিবার পুরো শপিং মল ঘুরে দেখা যায়, লোক সমাগম থাকলেও মেয়েদের তৈরি পোশাক বিপণীগুলো অনেকটাই ফাঁকা। দোকানের কর্মীরা জানালেন তাদের হতাশার কথা। নতুন নতুন সব পণ্যে দোকান টইটম্বুর থাকলেও আসছেন না ক্রেতারা।

বসুন্ধরা সিটির লেভেল সেভেনের ‘নেক্সট ইন্ডিয়া’ দোকানের মালিক এনামুল হক জানান, ঈদকে উপলক্ষ করে প্রতি বছরের মত এবারও ভারত থেকে মেয়েদের বিভিন্ন পোশাক আমদানি করেছেন। কিন্তু অন্য বছরগুলোর মতো নেই ক্রেতাদের সাড়া। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, ইন্ডিয়ান ভিসা সহজে পাওয়া যাওয়াতে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা সরাসরি ইন্ডিয়া থেকেই কেনাকাটা সেরে আসে। যার ফলে অনেকটাই বিক্রি কমেছে আগের তুলনায়।

অন্যদিকে লেভেল থ্রির ‘অর্নিমা সিটি’র কর্মী বাদল জানান, আমাদের এখানে বেশিরভাগ পণ্যই ভারত থেকে আনা। এর মধ্যে পদ্মাবতী বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়।

এছাড়াও আগের মতোই আছে গাউন, সালোয়ার-কামিজ, লেহেঙ্গাসহ আরও বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পোশাক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন মার্কেট কর্তৃপক্ষ একদরে বিক্রয় করতে বলেছে। কিন্তু আমাদের দেশের বেশিরভাগ লোকজনই একদরে কিনতে অভ্যস্ত নন। তারা এখনও দামাদামি করেন। যার ফলে আগের মত আর কমানো সম্ভব হয় না। ফলে ভাটা পড়েছে বিক্রিতে। বাদল জানালেন, বড়দের পোশাকের দাম শুরু ৫ হাজার টাকা থেকে। ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের পোশাক রয়েছে। আর ছোটদের পোশাক মিলবে ৩ থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যে।

পুরান ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছেন ব্যাংকার জামিল রহমান। বড় মেয়ে আর স্ত্রীর জন্য পোশাক কিনবেন। স্ত্রীর জন্য শাড়ি কিনতে পারলেও মেয়ের পছন্দের পোশাক দামের সাথে মিলাতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আগে দামাদামি করা যেত। কিন্তু এখন আর সেটা হয় না। তাই পোশাকের তুলনায় দাম অনেক বেশি মনে হলেও কিছুই করার নেই।’

অন্যদিকে লেভেল ফোরের ‘শালিমার’ শাড়ির দোকানিরাও অনেকটা ক্রেতাদের পথ চেয়ে আছেন। বেচা-বিক্রি কেমন জানতে চাইলে কর্মচারী শরিফ আহমেদ বলেন, ‘নিজের চোখেই দেখছেন ভাই, কোনও ক্রেতা নাই। এটাকে তো আর ঈদের বাজার বলা যায় না। খুবই খারাপ অবস্থা। আগের মতো আর বিক্রি নাই।’ তার দোকানে ৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দামের শাড়ি রয়েছে বলে জানালেন।

একটি-দুটি দোকানে নয়, পুরো ফ্লোর ঘুরেই চোখে পড়লো একই চিত্র। চাকচিক্যে ভরপুর মেয়েদের তৈরি পোশাকের ক্রেতা নেই বললেই বলে। বিক্রেতারা আশায় আছেন, হয়তো আগামী দিনগুলোতে ক্রেতা সমাগম হবে দোকানে।